22 January- 2021 ।। ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ ভাগীরথীর আত্মদানের স্বীকৃতি আজও মেলেনি

ইমন চৌধুরী : হাত দুটো রশি দিয়ে বাঁধা। সেই রশি মোটরসাইকেলের পেছনে বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় দুই সন্তানের মা, বিধবা ভাগীরথী সাহাকে। ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না মৃত্যু নিশ্চিত হয়। তারপর সেই ক্ষতবিক্ষত দেহ ফেলে দেওয়া হয় বলেশ্বর নদীতে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করাই ছিল শহীদ ভাগীরথীর অপরাধ। ১৯৭১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিরোজপুর শহরের রাস্তায় বর্বরোচিত এ নির্যাতনের ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই আত্মদানের স্বীকৃতি মেলেনি ভাগীরথীর।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে জানাযায় জানান, দুই ছেলে নিয়ে অল্প বয়সে বিধবা হন ভাগীরথী। তিন জনের সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হতো। বাধ্য হয়েই পিরোজপুর সদর উপজেলার বাঘমারা গ্রাম থেকে নৌকায় করে ১০ কিলোমিটার দূরে পিরোজপুর শহরে যেতেন বাসা-বাড়িতে কাজের জন্য। চারিদিকে তখন যুদ্ধ চলছে। কিন্তু, পরিবারের খাবারের যোগান দিতে ঘর থেকে বেরোতেই হয় তাকে। একদিন রাজাকার-আলবদরদের কু-নজরে পরেন তিনি। তাকে ধরে নিয়ে যায় শহরের ক্যাম্পে। ধর্ষণসহ পাশবিক নির্যাতন চলে ভাগীরথীর উপর। এ ঘটনায় নিজেকে দেশের জন্য উৎসর্গ করার দৃঢ় সংকল্প নেন ভাগীরথী। আর এ লক্ষ্যেই নিয়মিত ক্যাম্পের সংবাদ নেওয়া শুরু করেন তিনি। সেসব গোপন তথ্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে সহায়তা করতে শুরু করেন।

তবে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপনে সহযোগিতা করার সংবাদ আর গোপন থাকে না। এক সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী টের পেয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বর্বর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে হত্যা করা হয় ভাগীরথীকে।নদী থেকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা তার গ্রামের বাড়িতে সৎকার করে। এখনও তার সমাধির শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকু পড়ে আছে বাড়ির এক নির্জন কোণায়।

মুক্তিযোদ্ধা রব্বানী ফিরোজ ও সাংস্কৃতিক কর্মী খালিদ আবু জানান, পিরোজপুর শহরে স্থাপিত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ভাগীরথীর নাম রয়েছে চতুর্থ স্থানে। আর শহরের কৃষ্ণচূড়া মোড়টিতে তার নামে রয়েছে একটি ফলক। তবে দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মদানকারী এই নারীর জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি তেমন কোন উদ্যোগ।

আর শহীদ ভাগীরথীর ছোট ছেলে গণেশ সাহা দাবি, দেশ স্বাধীনের দীর্ঘ সময় পরও মায়ের আত্মদানের স্বীকৃতি আজও মেলেনি। নেওয়া হয়নি রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো উদ্যোগ। তাই সরকারের প্রতি তার দাবি মায়ের নামে যথাযথ সন্মান প্রদানের।

এদিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার বশির আহমেদ,দেশ স্বাধীনের জন্য শহীদ ভাগীরথীর আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সন্মান প্রদানে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে যতগুলো নির্মম ঘটনা ঘটেছে তার একটি পিরোজপুরের ভাগীরথী সাহার ঘটনা। বিপ্লবী এই নারীর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান সুশীল সমাজের।




আরো সংবাদ




   

সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এস.রায়

  • অস্থায়ী অফিস : লইয়ার্স  প্লাজা , পিরোজপুর ।
  • যোগাযোগ : ০৯৬৩৮০৪৭৫৭৩
  • ইমেইল : pirojpurpost24@gmail.com
টপ
সম্মেলনে কেঁদে ফেললেন ৩০ বছরের কাউন্সিলর পিরোজপুরে ৪২তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধন ৬ দফা দাবিতে পিরোজপুরে মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদান অবৈধ পার্কিং – বাড়ছে যানজট কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি দিন ইংরেজী নতুন বছরে রূপালী ব্যাংকের শুভেচ্ছা উপহার ভান্ডারিয়ায় ট্রলি উল্টে চালক নিহত পিরোজপুরে শিশুকে হত্যার দায়ে সৎ মায়ের যাবজ্জীবন নাজিরপুরে দুই যুবলীগ নেতার হাত – পা ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা বরগুনায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদকের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরন মঠবাড়িয়ায় বেদে পল্লীতে ইউএনও’র কম্বল বিতরণ