27 May- 2020 ।। ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ এর নামে একটি ফলক ছাড়া নেই কিছুই

নিজস্ব প্রতিনিধি : বল বীর, বল উন্নত মম শির, শির নেহারি আমারি নত শির ঐ শিখর হিমাদ্রির। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা লাইনটি সেই সকল বীরদের কথা মনে করিয়ে দেয় যাদের কাছে পরিবার, স্বজন এমনকি নিজের জীবনের থেকেও দেশপ্রেমটাই প্রথম ছিল। তেমন একজন দেশপ্রেমিক পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ । ১৯৭১ সালে ৫ মে দায়িত্বরত অবস্থায় নৃশংসভাবে হত্যা করে পাক বাহিনী।

প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বাবা পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ ১৯২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৯ সালে কিশোরগঞ্জ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৪১ সালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি ১৯৪৩ সালে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৬ সালে পুলিশ বিভাগে সাব-ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করেন। এরপরে বিভিন্ন পদে সিলেট, পঞ্চগড়, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও কুমিল্লায় চাকরি করেন । পরে পদন্নোতি পেয়ে ১৯৭১ সালের আগে সাব-ডিভিশনাল অফিসার হিসেবে পিরোজপুরে আসেন। শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ পিরোজপুরে কর্মরত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনে একাত্ম হন। ওই সময় থেকে পিরোজপুরের  রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক-হানাদার বাহিনীর যখন এদেশের মানুষের উপর আক্রমন করে তার খবর সংগ্রহ করে পিরোজপুরের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্ব পরিচালনায় সক্রিয় উদ্যোগ নেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে পিরোজপুরের অস্ত্রাগারের সংরক্ষিত অস্ত্র সরবরাহ করে প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলেন এবং ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রস্তুতি গ্রহণে প্রত্যক্ষ ভ‚মিকা রাখেন। ইতিমধ্যে ১৯৭১ সালের ৪ মে পাকবাহিনী পিরোজপুর শহর দখল করে নেয়। পাকবাহিনীর নেতৃত্বে ছিল ৩২ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের কর্নেল আতিক । পাক সেনারা আগে থেকেই ফয়জুর রহমান আহমেদের দেশপ্রেম কর্মকান্ড ও তার অবস্থান সম্পর্কে জানতো। ৫ মে ১৯৭১, তিনি কর্মস্থলে এসে পৌঁছলে পাক-হানাদারের কর্নেল আতিক সরাসরি তাঁকে বন্দি করার নির্দেশ দেয় এবং বলেশ্বর নদের তীরে নিয়ে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে ও পরে গুলি করে হত্যা করে মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেয়। স্থানীয় মানুষের কাছে প্রচন্ড জনপ্রিয় এই পুলিশ কর্মকর্তার মৃতদেহ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বলেশ্বর নদ থেকে তুলে নদীতীরে সমাহিত করে। স্বাধীনতার পর তাঁর মৃতদেহ পূর্ন মর্যাদায় ওই কবর থেকে পিরোজপুর কবরস্থানে স্থানন্তর করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শহিদ ফয়জুর রহমান আহমেদকে স্বাধীনতা পুুরস্কার (মরণোত্তর) ২০১৭ প্রদান করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল বারী খন্দকার বলেন, পাঞ্জাব আর্মি হ্যারে বলেশ্বর ঘাটে আইন্যা মারে। পরে গুলি কইর‌্যা লাশ বলেশ্বর নদীতে ফালাইয়া দেয় ।

মুক্তিযোদ্ধা গৌতম নারায়ন রায় চৌধুরী বলেন, ফয়জুর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনে একাত্ম হন। ওই সময় থেকে পিরোজপুরের  রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক-হানাদার বাহিনীর যখন এদেশের মানুষের উপর আক্রমন করে তার খবর সংগ্রহ করে পিরোজপুরের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্ব পরিচালনায় সক্রিয় উদ্যোগ নেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে পিরোজপুরের অস্ত্রাগারের সংরক্ষিত অস্ত্র সরবরাহ করে প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলেন এবং ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রস্তুতি গ্রহণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। দেশপ্রেম কর্মকান্ড ও তার অবস্থান সম্পর্কে জানতো। ৫ মে ১৯৭১, তিনি কর্মস্থলে এসে পৌঁছলে পাক-হানাদারের কর্নেল আতিক সরাসরি তাঁকে বন্দি করার নির্দেশ দেয় এবং বলেশ্বর নদের তীরে নিয়ে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে ও পরে গুলি করে হত্যা করে মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

পিরোজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদের অবদান অনুস্বীকার্য । দায়িত্ব ও দেশপ্রেমের যে মহান দৃষ্টান্ত তিনি তার জীবনের বিনিময় স্থাপন করে গেছেন তা আমাদের জন্য পাথেয় । তিনি আমাদের পুলিশ বাহিনীর গর্ব ।

পিরোজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( অপরাধ ও প্রশাসন ) মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদের অবদান স্বরূপ তার নামে পিরোজপুরে যে কোন প্রতিষ্ঠানের নামকরনের দাবী জানাই এবং বীর বিক্রম বা বীর প্রতীকের যেকোন উপাধী তাকে প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত নিবেদন জানাই ।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান জানান, একজন দায়িত্ববান, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী ও দেশপ্রেমিক । তার এই মহান আত্মত্যাগ বাংলাদেশ পুলিশকে গর্বিত করেছে এবং সে বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে আমি নিজেও গর্বিত । তিনি যেমন মহান আত্মত্যাগে বলীয়ান তারা সব সন্তানের আমাদের দেশের প্রথিতযশা ব্যাক্তি। প্রায়ত হুমায়ুন আহমেদ ছাড়াও তার অন্য সন্তানেরা হলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপিকা সুফিয়া হায়দার, মমতাজ শহীদ, রোকসানা আহমেদ এবং কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব।




আরো সংবাদ




   

সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এস.রায়

  • অস্থায়ী অফিস : লইয়ার্স  প্লাজা , পিরোজপুর ।
  • ফোন : ০৯৬৩৮০৪৭৫৭৩
  • মুঠোফোন : ০১৫২১৩০০৬০০
  • ইমেইল : pirojpurpost24@gmail.com
টপ
নাজিরপুরে স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করায় কলেজ ছাত্রকে কারাদন্ড বিসিসিআইকে কড়া ইমেল পাঠিয়েছে আইসিসি বিয়ের কথা জানালেন সোনাক্ষী ছুটি বাড়ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভারত সীমান্তের কাছে সামরিক বিমান ঘাঁটি নির্মাণ কাজ শুরু করেছে চীন : এনডিটিভি পিরোজপুরে বেড়েই চলছে নামে-বেনামে অনলাইন পোর্টালের দৌরাত্ম্য ১৫৫০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক বিক্রেতা র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ : অভিযুক্ত গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকা নিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পিরোজপুরে পূবালী ব্যাংক লকডাউন