1. pirojpurpost24@gmail.com : admin :
  2. kumarshuvoroy@gmail.com : Shuvo Roy : Shuvo Roy
  3. epiropur@gmail.com : e p : e p
  4. eshuvo1@gmail.com : shuvo roy : shuvo roy
মায়ের সাথে আড়াই বছরের শিশু কারাগারে : অপর ঘটনায় ৩ জনের জামিন | পিরোজপুর পোষ্ট ২৪
বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

মায়ের সাথে আড়াই বছরের শিশু কারাগারে : অপর ঘটনায় ৩ জনের জামিন

  • শেষ হালনাগাদ : সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৯
  • ৬৬০ জন সংবাদটি দেখেছেন

জে আই লাভলু  :

ছোট্ট শিশু আমিনুর। বাড়ির অন্যান্য শিশু এবং পিতা মাতার সাথে খেলা আর দুষ্টমি করেই সময় কাটতো তার। কিন্তু এখন মায়ের সাথে সে কারাগারের চার দেয়ালের মাঝে বন্দি। কি কারনে মায়ের সাথে তাকে কারাগারে আসতে হল জানেনা আড়াই বছর বয়সের এই ছোট্ট শিশুটি।
তার পিতা মিজানুর রহমান ওরফে তারা গাজী একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বহুদিন ধরে সে এলাকায় গাঁজা, ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আর এ কারনে একবার তারা গাজীর সাথে স্ত্রী শিমুল বেগমের ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। পরে সন্তানের কথা চিন্তা করে আবার তারা গাজীর সাথে সংসার শুরু করেন স্ত্রী শিমুল বেগম। এলাকাবাসীর মতে তারা গাজীর স্ত্রী অত্যান্ত শান্তশিষ্ট প্রকৃতির। মাদক ব্যবসা ছাড়তে স্বামীকে বহুবার বারন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার কোন নিষেধে কাজ হয়নি।

এদিকে তারা গাজীর মাদক ব্যবসার খবর বহুদিন আগেই নজরে আসে পুলিশের। আর তাই গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক মোঃ আহসান হাবিরের নেতৃত্বে তার বাড়ীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার ঘর থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির ১৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এসময় পালিয়ে যান তারা গাজী। অভিযান পরিচালনাকারীরা এসময় ঘরে থাকা তারা গাজীর স্ত্রী শিমুল বেগমকে (৩০) আটক করে নিয়ে যান। শিমুল বেগমের আড়াই বছর বয়ষী শিশু সন্তান আমিনুরকে দেখা শোনার মত কেউ না থাকায় মায়ের সঙ্গে তাকেও নিয়ে আসা হয়। এদিকে ইয়াবা উদ্ধারের এ ঘটনায় ঐদিন শিমুল বেগম এবং তার স্বামী মিজানুরের বিরুদ্ধে ইন্দুরকানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে ঐ মামলায় শিমুল বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পিরোজপুর আদালতে পাঠালে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মায়ের সাথে তখন শিশু সন্তান আমিনুরও কারাগারে যান। স্বামী তারা গাজীর নামে একই মামলা থাকায় পলাতক রয়েছেন তিনি। তাই স্ত্রীর জামিনের জন্য তদবির করতে পারছেন না। তাছাড়া শিমুল বেগমের বৃদ্ধ পিতা মাতা অসহায় হয়ে পড়ায় এমন অবস্থায় জামিনে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনতে মেয়ে এবং নাতির জন্য কিছইু করতে পারছেন না তারা।

এ গেল মা শিমুল বেগম এবং শিশু আমিনুরের কথা। অপর এক ঘটনায় একই দিন ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে মুরগি চুরির অভিযোগে উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের দড়িরচর বাড়ৈখালী গ্রামের রফিকুল ইসলাম শেখের স্ত্রী সাজিদা বেগম নামের এক গৃহবধুর ঘরে প্রবেশ করে তার মাথার চুল কেটে দেয় প্রতিবেশী কয়েক নারী। এ ঘটনায় পরের দিন শুক্রবার বিকেলে সাজিদা বেগম বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় চার জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ শুক্রবার রাতে একই গ্রামের মৃত মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী তাইমুন ওরফে ফরিদা (৫১), রিয়াজ শেখ এর স্ত্রী মিঠি বেগম ওরফে নারগিস (৩০) এবং শফিকুল ইসলাম এর স্ত্রী বিউটি বেগম (২৫) নামে ওই তিন নারীকে তাদের বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতদের পরে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে পিরোজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই বাড়ির হওয়ায় আসামীরা সাজিদা বেগমের নিকট আত্মীয় বলে জানান ঐ বাড়ির বাসিন্দা লিপি বেগম।

এদিকে এ মামলায় ঐ তিন নারীর মধ্যে বিউটি বেগমের দেড় বছরের শিশু পুত্র মারুফ, নারগিস বেগমের ছয় মাসের শিশু পুত্র আব্দুল্লাহ এবং ইব্রাহীম (৫) মায়ের সাথে তারাও বর্তমানে জেল হাজতে যায়। এদের মধ্যে চাকুরির সুবাধে নারগিসের স্বামী ঢাকায় থাকায় সন্তানদের দেখা শুনার জন্য কোন লোকজন না থাকায় দুই শিশু পুত্রকে সাথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান তাদের নিকট আত্মীয় রবিউল ইসলাম। একই সমস্যার কারনে বিউটি বেগমের সন্তানকেও সাথে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে পৃথক এ দুটি ঘটনায় ৪ শিশু মায়ের সাথে জেল হাজতে থাকার বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়

গৃহবধূর চুল কাটার ঘটনায় সরেজমিনে গেলে বাড়ির বাসিন্দা লিপি বেগম জানান, গৃহবধূ সাজিদার অনেক দিন ধরে চুরির স্বভাব ছিল। আর এ কারনে অতিষ্ঠ হয়ে তার বাড়ির লোকজন এক মুঠি চুল কেটে দেয়।

তিনি আরো জানান, জেলে থাকা তাদের তিন জনের  জামিনের আবেদন করা হলে সোমবার তারা জামিনে মুক্তি পান বলে জানান আসামীদের নিকট আত্মীয় রবিউল।

চুরির অভিযোগের বিষয়ে সাদিয়া বেগম জানান, মিথ্যে চুরির অপবাদ দিয়ে আমার মাথার চুল কেটে দিয়েছিল ওরা। এ ঘটনায় আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, মাদক মামলায় ইয়াবা ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান তারা গাজীর স্ত্রী শিমুল বেগমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাড়িতে রেখে যাওয়ার মত দেখা শুনার কোন লোক না থাকায় সাথে তার একটি শিশু পুত্রও রয়েছে।

অপরদিকে সাজিদা নামে এক নারীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে দুই জনের সঙ্গে তিনটি শিশু সন্তান থাকায় তাদেরকে সাথে নিয়ে যান।

পিরোজপুর জেলা মানবাধিকার কমিশনের সহ-সভাপতি এবং জেলা মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদা আক্তার হেনা এ বিষয়ে মতামত জানাতে গিয়ে বলেন, চুরির অপবাদে একজন নারীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনা মানবাধিকার লংঘনের সামিল বলে আমি মনে করি। ইন্দুরকানীর পৃথক দুটি ঘটনায় জেল হাজতে চার নারীর সাথে চার শিশু সন্তান থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ঐ চার নারীর সন্তানদেরকে নিকট আত্মীয়দের কাছে রেখে যাওয়ার মত হয়তো কোন অবস্থা না থাকায় বাচ্চাদেরকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুধের বাচ্চাসহ এই শিশুদের জন্য অবশ্য খারাপ লাগছে যে মায়ের সাথে তাদেরকে জেল হাজতে যেতে হয়েছে।
পিরোজপুরের জজ কোর্টের পিপি এ্যাড. খান মোঃ আলাউদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, অপরাধ করলে আইন অনুয়াযী সবাইকে শাস্তি পেতে হবে।এটাই নিয়ম। এখানে আমাদের বলার কিছু নেই।

আরো সংবাদ
পিরোজপুর পোষ্ট ২৪ ডটকম - ২০১৮-২২। (অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের ছবি, ভিডিও ও সংবাদ কপি করা থেকে বিরত থাকুন)
Theme Customized By PIROJPURPOST24
কারিগরি সহায়তায়: Website-open
x