18 April- 2021 ।। ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ


মামলা দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে দাবি ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেমের

নিজস্ব প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর পত্তাশীতে কাঠ ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় সত্য আঁড়াল করে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন সহ অনেককে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেমের । আগামী ইউপি নির্বাচনকে টার্গেট করে ইউপি চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মিদের বিতর্কিত করতে এ ঘটনায় হয়রানি মুলক মামলা দায়ের এবং অপপ্রচার চালানোর দাবি করেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম জানান , গত (২৮ মার্চ) রবিবার রাত আনুমানিক ৯টা। আল আমিন নামে এক কাঠ ব্যবসায়ী ঐদিন রাতে তার নিজ বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরে পত্তাশী গ্রামের মুসা সেখের বাড়িতে যান। ঐদিন রাতে কাছাকাছি একটি স্থানে মাহফিল চলায় পুরুষ লোকজন বাড়িতে নেই ভেবে ঐ বাড়িতে ঢুকে বিবাহিত একটি মেয়েকে শ্লীতাহানির চেস্টা চালাতে গেলে বাড়ির লোকজন তাকে ধরে মারধর করে। এরপর ইন্দুরকানী থানা পুলিশ খবর পেয়ে আল আমীনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ঐ মেয়েটি বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আলামিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর সেখান থেকে তাকে পুলিশ প্রহরায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, কাঠ ব্যবসায়ী আল-আমিনকে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) রাতে ২নং পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাওলাদার মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার ছেলে সানী সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ইন্দুরকানী থানায় মামলা করেন আল আমিনের পিতা আলী আকবার। এ ঘটনায় পত্তাশী ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মোঃ আঃ মজিদ ফকির ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আলাম ফকিরকে ঐদিন রাত ১১টার দিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তবে এ পুরো ঘটনাটি আড়াল করে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজনকে ফাঁসাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয় আলামিনের নির্যাতনের ঘটনাটি। আর এটি ভাইরাল হয়ে পড়ে ফেসবুক সহ গণমাধ্যম গুলোতে। শুরু হয় অপপ্রচার … এমনটিই অভিযোগ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ।

শ্লীতাহানির শিকার ঐ মেয়েটির মা  জানান, আমার মেয়ে দরজা খুলতেই আলামিন তার মুখ চেপে ধরে। এরপর গায়ের ওড়না ধরে টান দিলে সে ছিটকে বাইরে পড়ে যায়। এসময় সে চিৎকার শুরু করলে তার গলা চেপে ধরে আলামিন। চিৎকারের শব্দ পেয়ে তিনি ও তার ফুফাতো ভাই আহম্মদ ছুটে আসতেই আলামিন দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তাকে ধরে ফেলে আহম্মদ।

শ্লীতাহানির শিকার ঐ মেয়েটির চাচা শাহ আলম শেখ জানান, ঘটনার দিন রাতে পত্তাশী বাজার সংলগ্ন স্থানীয় হাসানিয়া মাদ্রাসার মাহফিলে ছিলাম আমরা। বাড়িতে দু-এক জন যুবক ছাড়া অন্যান্য পুরুষ লোকজন মাহফিলে ছিল। আমরা এ ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে বাড়িতে ছুটে আসি। এসে দেখি আশপাশের অনেক লোক জড়ো হয়ে গেছে। রাত দশটার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের বাড়িতে আসে ও এর কিছু পরে স্থানীয় থানা পুলিশ এখানে আসে । এরপর বাড়িতে মহিলাদের কাছে ঘটনা শুনে আল-আমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

সরেজমিনে ঐ বাড়িতে গেলে মেয়েটি ঐ দিনের ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দুদিন আগে শুক্রবার আমি মোড়েলগঞ্জের দৈবজ্ঞকাটি শ্বশুর বাড়ি থেকে আমার বাবার বাড়ি পত্তাশী গ্রামে ফেরার পথে আলামিন আমার পিছু নেয় এবং পরে পথ আগলে দাঁড়ায় এবং আমার সাথে তার কিছু কথা আছে বলে তিনি জানায়। এ সময় তার কথাবার্তায় খারাপ কিছু উদ্দেশ্য মনে হলে আমি তাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করি। এরপর আমার মায়ের সাথে কথা বলবেন বলে তিনি আমার কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার রেখে দেন। বাড়িতে পৌছে বিষয়টি আমার মাকে আমি খুলে বলি। এরপর বেশ কয়েকবার আমার নাম্বারে ফোন দিয়েছিলেন তিনি। আমি একবার ফোন রিসিভ করে তার পরিচয় শোনার পর পরে আর তার ফোন রিসিভ করিনি।

তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন রাতে আমার পড়নের ওড়না ও হাত ধরে টানা হেচরা করলে আমি চিৎকার দিলে এরপর সে আমার মুখ ও গলা চেপে ধরে। পরে শব্দ পেয়ে আমার মা ঘর থেকে বাইরে নামে। এরপর আমার এক ভাইও ছুটে আসলে আলামিন আমাকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে। এরপর আমি উঠানেই অসুস্থ্য হয়ে পড়ি।

মেয়েটির ফুফাতো ভাই আহম্মদ জানান, আমার বোনের ডাকচিৎকার শুনে আমি ওখানে ছুটে আসি। তখন আল-আমিন নামে ওই লোকটাকে দৌড়ে পালাতে দেখে আমি তাকে ধরে ফেলি। তখন তাকে উত্তম মধ্যম দেয় শুরু করলে আশাপাশের লোকজন এখানে আসে। আলামিন দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারে তাই স্থানীয় লোকজন তাকে ওখানে বেঁধে রাখেন বলে তিনি জানান।

স্থানীয়রা জানান,মাহফিল স্থল থেকে আল আমিনের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা অন্যদিকে। পথঘাট বিহীন একটি নির্জন বাড়িতে রাতের আধারে ঢোকার উদ্দেশ্যটা কি ছিল তার। কুমতলব নিয়ে এই বাড়িতে ঢুকে ছিল সে এমনটাই জানালেন ওই বাড়ির এবং আশপাশের লোকজন। এঘটনার আরও কয়েকদিন আগে অপর একটি বাড়িতে ঢোকায় বাড়ির মহিলাদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় সে।

স্থানীয় ছোমেত হাওলাদার জানান, রাত দশটার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ইন্দুরকানী থেকে পত্তাশী বাজারে আসলে এ ধরনের একটি ঘটনার খবর তাকে আমি জানাই। সাথে সাথে তিনি থানায় ফোন করেন এবং বিষয়টি জানতে স্থানীয় চৌকিদারকে ওখানে যেতে বলেন।

স্থানীয় চৌকিদার রিয়াজ জানান, ঘটনার ঘন্টাখানেক পরে চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিষয়টি ভালভাবে জানার জন্য আমি ওখানে যাই। আমি যেয়ে দেখি ঐ বাড়ির এবং আশপাশের লোকজন আলামিনকে ঘিরে রেখেছে। এরপরে চেয়ারম্যান ওখানে আসেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আল আমীন জানান, রোববার রাতে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় মাহফিল শুনে এলাকার এক যুবকের সাথে বাড়ি ফিরছেলেন। এ সময় একটি বাড়ির উপর থেকে যাওয়ার সময় পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর লোকজন আমাকে বেধে নির্যাতন করে।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হাওলাদার মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, আগামী ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে আমাকে নির্বাচন থেকে দুরে রাখার জন্য এবং বিতর্কিত করার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী একটি মহল আমার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে। একের পর এক এলাকার বিভিন্ন ঘটনা টেনে এনে এর মধ্যে আমি ও আমার আমার পরিবারকে উদ্দেশ্য মুলক ভাবে জড়ানো হচ্ছে।আলামিন ঐদিন রাতে কুমতলব নিয়ে মুসা শেখের বাড়িতে যায়। ঐ বাড়ির একটি বিবাহিত মেয়ের শ্লীতাহানির চেস্টা চালায় সে। পরে বাড়ির লোকজন তাকে ধরে বেধে রাখে। আমি পরে ঐ ঘটনার খবর লোকমুখে শুনে তাৎক্ষনিক বিষয়টি থানায় জানাই এবং স্থানীয় এক চৌকিদারকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। পুলিশ এসে পরে ঐ মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শুনে আলামিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার যে দায়িত্ব সেটা পালন করি। কিন্তু অবাক করার বিষয় ঘটনা ঘটল একরকম আর সেটা ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য আলামিনকে ব্যবহার করে স্থানীয় একটি মহলের প্ররোচনায় ঘটনার দুদিন পর আমি ও আমার ছেলেসহ আমার দলীয় লোকজনের বিরুদ্ধে হয়রানি মুলক মামলা দিয়েছে।

ইন্দুরকানী থানার ওসি মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, একটি মেয়েকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে স্থানীয়রা আল আমীনকে আটকের পর মারধর করে এবং এ ঘটনায় ইন্দুরকানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে ঐ মেয়েটি। পরে আল আমিনকে মারধরের অভিযোগ এনে তার পিতা আলী আকবার বাদী হয়ে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলে সানিসহ ১০জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এ মামলার এজাহার ভুক্ত ২ জনকে গ্রেফতার করে ওই মামলায় গত বুধবার (৩১ মার্চ) আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জে/রায়/পিরোজপুর পোষ্ট -২৪




আরো সংবাদ




   

সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এস.রায়

  • অস্থায়ী কার্যালয় : লইয়ার্স  প্লাজা , পিরোজপুর ।
  • আলাপন : ০৯৬৩৮০৪৭৫৭৩
  • ইমেইল : pirojpurpost24@gmail.com
টপ
জমিজমা বিরোধের জের ধরে রোজাদার বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহত সতর্ক অবস্থানে পুলিশ মামুনুল হক গ্রেফতার লকডাউনে পিরোজপুরে শ্রমিকদের জন্য চালু হলো একবেলার “শ্রমজীবী ক্যান্টিন” করোনায় আক্রান্ত স্বরূপকাঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দুরকানীর চন্ডিপুর বাজারের মাংস বিক্রেতাকে মারধর করায় ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ সমাবেশ কাউখালীতে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা অভিনেত্রী কবরী আর নেই তবুও বাঁচার স্বপ্ন দেখি পিরোজপুরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন