1. pirojpurpost24@gmail.com : admin :
  2. kumarshuvoroy@gmail.com : Shuvo Roy : Shuvo Roy
  3. epiropur@gmail.com : e p : e p
  4. eshuvo1@gmail.com : shuvo roy : shuvo roy
পিরোজপুরে ২০০০ সালে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যা বলেছিলেন (ভিডিও ফুটেজ থেকে নেয়া) | পিরোজপুর পোষ্ট ২৪
শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

পিরোজপুরে ২০০০ সালে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যা বলেছিলেন (ভিডিও ফুটেজ থেকে নেয়া)

  • শেষ হালনাগাদ : বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৫৯৬ জন সংবাদটি দেখেছেন

২০০০ সালে পিরোজপুরে শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদের পরিজনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হুমায়ূন আহমেদ তার মা আয়শা ফয়েজের উপস্থিতিতে তার বাবার স্মৃতিচারনসহ মুক্তিযুদ্ধ ও তার লেখা উপন্যাস সম্পর্কে সাবলীল বক্তব্য উপাস্থাপন করেছিলেন। পিরোজপুরের মাটি আর মানুষের সঙ্গে তার রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। এ কারনেই শত কর্মব্যাস্ততার মধ্যেও তিনি বার বার পিরোজপুরে এসেছেন। ২০০০ সালের ২০ অক্টোবর পিরোজপুর টাউন ক্লাব মাঠে তার পরিজনদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ প্রাণ খোলা বক্তব্য প্রদান করেছিলেন।
তিনি মারা যাওয়ার পর তার সেই ভিডিও চিত্র পাওয়া গেল পিরোজপুরের সাহিত্য প্রেমিক ও হুমায়ূন ভক্ত আফজাল হোসেন লাভলুর কাছে। আফজাল হোসেন লাভলু জানান বলেন, প্রায় ১৯ বছর হুমায়ূন আহমেদের প্রাণবন্ত কথাগুলোর ভিডিও ফুটেজ আগলে রেখেছিলাম। তিনি মারা যাবার পর মনে হল এই ভিডিও চিত্র তার পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় হতে পারে। কারন তিনি এখানে তার লেখা সাহিত্য,দেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার ভাবনা সর্বপরি তার শহীদ পিতার সমাধিস্থল সম্পর্কিত তথ্যসম্বলিত বক্তব্য প্রদান করেছিলেন। এছাড়া আমি মনে করি তার এ বক্তব্য থেকে পুরো দেশবাসী এক অজানা হুমায়ূন আহমেদকে জানতে পারবেন। এ প্রতিবেদক নন্দিত কথাসাহিত্যিকের সেদিনের সেই বক্তব্য হুবুহু পাঠকদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
সেদিন তিনি নাম ঘোষনার পর সরাসরি মাইক্রোফোনের কাছে এসে সবাইকে সালাম দিয়ে এক ঘন্টা দেরীতে পৌছানোর কারনে ক্ষমা চান এবং বলেন। আমি সময় সম্পর্কে সচেতন। যারা টিচার থাকে তারা সময়ের ব্যাপারে গন্ডগোল করেনা। আমি বিশ বছর ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে মাষ্টারি করেছি। যার ক্লাশ থাকে যদি ন’টার সময় তাকে ন’টার সময়ই যেতে হবে। নয়টা পাঁচ এ গেলে হবে না বা নয়টা বাজার পাঁচ মিনিট আগে গেলেও হবেনা । অন্যরা সময়ের ব্যাপারে গন্ডগোল করে। কখনও কোন শিক্ষককে সময়ের ব্যাপারে গন্ডগোল করতে দেখি নাই। তাদের দির্ঘদিনের ট্রেনিং তাদের সময় সম্পর্কে সচেতন করে দেয়। আমি নিশ্চিত ছিলাম সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে এখানে উপস্থিত থাকব। আমি যখন এখানে পা দেই তখন দেখি ৮টা বাজে। তখন আমি কি পরিমান লজ্জা পেয়েছি তা নিজেই জানি। এই প্রচন্ড গরমে অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করা তাও আমার জন্যে অপেক্ষা করা এটা আমার জন্য লজ্জাজনক। পুরো ব্যাপারটায় আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আজকে যে আলোচনা সভা হচ্ছে সেটা শুনেও কিছুটা সংকিত বোধ করছি। কারন, এখানে আসলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বা সেই সময়কার ঘটনা গুলি নিয়ে একটি জটিল আলোচনা সভা হবে। এ বিষয় মানুষিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। আমি আসলে আমার মাকে নিয়ে, ভাই-বোনকে নিয়ে,বাচ্চা গাচ্চা নিয়ে এখানে আসার শখ ছিল। বহুদিন এখানে আসা হয় নাই। বহুদিন বাবার কবর জিয়ারত করা হয় নাই। আমি চাচ্ছিলাম আমার বাচ্চারা আমার বাবার কবরের পাশে এসে দাঁড়াক। আমরা নিজেরা একই কারনে কিন্তু আসছি। আমরা এসছি যে মানুষটি পায়ই আমার কাছে মনে হয়, এই মানুষটি দুরদেশে একা একা পরে আছে। আমরা তো পরে আছি ঢাকায়। প্রত্যেকে নিজেদের কর্মকান্ডে ব্যাস্ত। আমি ব্যাস্ত নাটক নিয়ে, আমি ব্যাস্ত সিনেমা নিয়ে, আমি ব্যাস্ত লেখালেখী নিয়ে। কিন্তু যে মানুষটি একটি সুখী পরিবারের কল্পনা করেছিল। সব বাচ্চাদের নিয়ে নানানভাবে স্বপ্ন দেখেছিল সেই মানুষটি পরে আছে একা।
যে মানুষটি মৃত তার কোন অনুভব থাকার কোন কারন নেই। তবু আমি বা লেখক যারা, যারা লেখালেখি করেন,তারা কোননা কোনভাবে মনে করেন মানুষের মৃত্যু হয় না।
আমি একটা ছবি বানাব। যে ছবিটির নাম থাকবে ১৯৭১। আমি মুক্তিযুদ্ধের একটি উপন্যাস লিখতে চাই। খুব ভালোমত লিখতে চাই। তার জন্য আসলে আমি যেখানে যাই বিভিন্ন জায়গায় যখন যাই, আমি ঘটনা গুলি কি ঘটেছে না ঘটেছে বোঝার চেষ্টা করি। আমি মনে করি ৩০/৩৫ বছর যখন পার হয়ে যাবে তখন আমরা আরও অনেক সহনশীল হব। আমরা আরও সহজভাবে সত্যিকার অর্থে সত্য কথাটি বলতে পারবো। একটা উদাহরন দেই মনে করেন আজ থেকে ১০০ বছর পর কেউ মনে করলো মুক্তিযুদ্ধটা কিভাবে হয়েছিল , কিভাবে ঘটেছিল সেগুলি সেই সময়কার লেখক-উপন্যাসীকদের উপন্যাস গুলো পড়ে (ধারনা করি)তারা সমস্ত উপন্যাস গুলো পড়া শুরু করলো। তারা কিন্তু বিভ্রান্ত হবে। বিভ্রান্ত হবে এই কারনে যে বাংলাদেশের কোন উপন্যাসীকদের কোন উপন্যাসে বাংলাদেশের গল্পকারদের কোন গল্পে এমন কোন কথা উল্লেখ নাই যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনী অংশগ্রহন করেছিল। এখানেই ভিডিও ফুটেজটি শেষ হয়।
ওই সময় ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন,তার ভগ্নিপতি অ্যাডভোকেট আলী হায়দার, মরহুম ডাক্তার আব্দুল হাই (এমপিএ),তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ জহুরুল হক,ভাষা সৈনিক মরহুম মোঃ জালাল উদ্দিন প্রমূখ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন জিয়াউল আহসান ।
উল্লেখ্য ১৯৭১এর মুক্তিযুদ্ধের সময় হুমায়ূন আহমেদের বাবা ফয়জুর রহমান পিরোজপুর মহাকুমা পুলিশ প্রধান (এসডিপিও) ছিলেন ৭১ এর ২মে মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেজারি লুট করে। ৪ মে পাকবাহিনী শহরে প্রবেশ করে শহর দখল নেয়। তার বাবা নাজিরপুরে বাবলা গ্রামে আশ্রয় নেন। এর পর তারা ট্রেজারি লুটের সঙ্গে ফয়জুর রহমানের সংশ্লিষ্টতার প্রমান পেয়ে তৎকালিন ওসির মাধ্যমে খবর দিয়ে এনে নির্মভাবে খান সেনারা হত্যা করে। পরে পৌর কবর স্থানে সমাহিত করা হয়। এ সম্পর্কিত বহু তথ্য হুমায়ুন আহমেদ তার লেখা বিভিন্ন উপন্যাসে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আমার বাবার জুতা শিরোনামের একটি লেখায় তিনি লিখেছেন, আমার বাবার হারিয়ে যাওয়া লাল জুতা ও নাইলনে মুজা দেখে লাশের পরিচয় পাওয়া একটি মর্মস্পর্শি ঘটনা। জানাগেছে, হুমায়ূন আহমেদের পিতা সাহিত্য চর্চা করতেন। সাহিত্য সুধাকর নামে তার গ্রন্থ রয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের তৃতীয় উপন্যাস শ্যামল ছায়ায় তার প্রতিফলন ঘটেছে।

আরো সংবাদ
পিরোজপুর পোষ্ট ২৪ ডটকম - ২০১৮-২২। (অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের ছবি, ভিডিও ও সংবাদ কপি করা থেকে বিরত থাকুন)
Theme Customized By PIROJPURPOST24
কারিগরি সহায়তায়: Website-open
x