28 November- 2020 ।। ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


কাউখালীতে সুপারির দাম চড়া : ফলন কম

মোঃ তারিকুল ইসলাম পান্নু : সুপারির জন্য বিখ্যাত উপকূলীয় দক্ষিণ অঞ্চলের কাউখালী উপজেলা। এ উপজেলার লোকজনের সারাবছরের আয়ের বড় অংশ আসে সুপারি বিক্রি থেকে। প্রতি বছরই এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে সুপারি সারাদেশে ছড়িয়ে যায়। কিন্তু এবার সুপারির ফলন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

অর্থকারী ফসল সুপারীর বাম্পার ফলনে বাগান মালিকদের মুখে হাসি থাকলেও মনে রয়েছে শঙ্কা। সম্প্রতি দেশে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সুপারি বাগান গুলোতে। প্রাকৃতিক নানান দুর্যোগ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে সুপারির ফলন তথা উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যার ফলে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।
কাউখালী উপজেলায় প্রাচীন কাল থেকে ব্যাপক হারে সুপারির চাষ হয়ে আসছে। এখনকার সুপারী মানে ভাল বলে সুপারীর বাণিজ্যিক বাজার গড়ে উঠেছে।

সুপারী চাষীরা জানায়, এবার এ উপজেলায় সুপারীর গত বছরের তুলনায় ফলন অনেক কম হয়েছে। তবে সুপারীর বাজার চড়া থাকায় চাষীরা সুপারীতে ভাল দাম পেলেও খুশী নন তারা। কারণ ফলন কম হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষীরা।

কৃষক ও সুপারি ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, দেশে সুপারির অন্যতম উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে দক্ষিনাঞ্চলের কাউখালী সুপরিচিত। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত সুপারির বড় অংশ দক্ষিণাঞ্চলের কাউখালীতে উৎপাদিত হয়। ফলে এখানে গড়ে উঠেছে সুপারীর বানিজ্যিক বাজার। উপকূলে সুপারীর সবচেয়ে বড় মোকাম কাউখালী। দক্ষিনাঞ্চলের বাগেরহাট, রাজাপুর, কাঠালিয়া, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ, ঝালকাঠী সহ ১৫টি উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা সুপারি নিয়ে বিক্রির জন্য কাউখালী শহরে গড়ে উঠা সুপারির হাট। এখানে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার দুই দিন সুপারির হাট বসে।

তবে শুকনো সুপারির পিক মওসুম ফাল্গুন থেকে আষাঢ় পর্যন্ত এবং কাঁচা সুপারীর পিক মওসুম শ্রাবণ থেকে অগ্রহায়ন পর্যন্ত। এ সময় বেশির ভাগ সুপারি ক্রয়-বিক্রি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে ভারতসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠান। আবার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরাও এখানে আসেন সুপারি কিনতে। কাউখালী থেকে নিয়মিত সুপারি সংগ্রহ করেন। এখান থেকে প্রায় প্রতিদিন লঞ্চ, ট্রলার ও ট্রাক বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায় সুপারি।

কাউখালীর বাজারের সুপারি ব্যবসায়ী মানিক তালুকদার জানান, কাউখালীতে প্রতি হাটে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পাকা ও শুকনো সুপারির কেনা-বেচা হয়। প্রতি বছর এই মৌসুমে বিভিন্ন হাট থেকে সুপারি কিনে মজুদ করে থাকে। শুকিয়ে ও পানিতে ভিজিয়ে সুপারি সংরক্ষণ করা হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এ সুপারি এলসির মাধ্যমে ভারতে যাচ্ছে। তিনি জানান, গত মৌসুমে সুপারীর দাম ছিল অনেক ভাল। তবে এবার সুপারীর দাম বাড়তির দিকে। বর্তমান মৌসুমে ২১ ঘা (২১০টি) বা এক কুড়ি কাঁচা সুপারির দাম শ্রেণী ভেদে ৩৬০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত মৌসুমের তুলনায় অনেক বেশী।

কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরিফ বলেন, মাটি এবং আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণে কাউখালীর সুপারি আকারে অনেক বড় এবং সুস্বাদু হয়।




আরো সংবাদ




   

সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এস.রায়

  • অস্থায়ী অফিস : লইয়ার্স  প্লাজা , পিরোজপুর ।
  • যোগাযোগ : ০৯৬৩৮০৪৭৫৭৩
  • ইমেইল : pirojpurpost24@gmail.com
টপ
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে আমরাজুড়ী বাজার; ভাঙ্গনরোধে নদী তীরে অবস্থান কর্মসূচি ইন্দুরকানীতে নব গঠিত দুইটি ইউনিয়ন সহ চারটি ইউনিয়নের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ বরিশাল বিএম কলেজের নতুন অধ্যক্ষ জিয়াউল হক আরো তিন মাস জামিনের মেয়াদ বাড়ল আউয়াল দম্পতির ভান্ডারিয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়ায় টেম্পু কেড়ে নিল কলেজ ছাত্রের প্রাণ কাউখালীতে ৫ কেজি গাঁজা সহ পিতা- পুত্র গ্রেফতার ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি ট্রাম্প