10 April- 2020 ।। ২৭শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ


একটি বাস্তব ঘটনা

পিরোজপুর পোষ্ট ডেক্স : দুপুর ১২.১৫ মোবাইল ফোনটি বেজে উঠলে রিসিভ করি, অপর প্রান্ত থেকে জানতে চায়,স্যার কোথায় আছেন? জরুরী সংবাদ আছে।দেখা করে বলবো।আমি বলি অফিসে। ।আবার প্রশ্ন স্যার অফিসে আসবো একটু সময় নিলাম,তারপর বললাম বেশি জরুরী,ফোনে বলা যায় না? লোকটি বললো, স্যার আমি সালামত,সালামত বুড়া স্যার কয়দিন আগে গাজা সহ ধরে চালান দিছিলেন।কাল যামিন পাইছি।স্যার আসি,না বলতে পারিনি বললাম আসেন।সালামত বুড়ার বয়স অনুমান ৭০ বছর হইবে ।গত ২২ দিন আগে গাজা বিক্রি করার সময় পাঁচ পোটলা মোট ১০০ গ্রাম গাজা সহ গ্রেপ্তার করে কোর্টে সোপর্দ্দ করে ছিলাম। এর আগেও সালামত বুড়া তিন চারবার মাদক সহ গ্রেপ্তার হয়ে জেল হাজত খেটেছে। কিন্তু সভাব পরিবর্তন হয় নাই। চালান করার আগে এবার যামিন পাইয়া আর মাদক ব্যাবসা করবেনা বলে মায়ের দুধের কসম কেটে ওকে যে গাঁজা বিক্রি করার জন্য দিতো তাকে ধরিয়ে দিবে বলছিল।মাদক ব্যাবসায়িদের কারা কসম আমি বিশ্বাষ করি না।একবার এক মাদক বিক্রেতা সিও অফিস মোরে তার ৫ বছরের মেয়ের মাথায় হাত দিয়া আর মাদক বিক্রি করবেনা কিরা করছিল। আমি বিশ্বাষ করেছিলাম কিন্তু ৭ দিনের মাথায় বলেশ্বর ব্রিজ থেকে ধাবরাইয়া ধরার চেষ্টা করি মটর সাইকেল ও এক ব্যাগ ফেনসিডিল ফালাইয়া পালাইয়া যাইতে সক্ষম হইলেও পরে মাদক সহ গ্রেপ্তার হইছিল।আরও উদাহরন আছে।
যাই হোক, সালামত বুড়া ডিবি অফিসে হাজির,স্যার কালকে সন্দ্বায় জেল থেকে বের হইছি দেখা করতে আসতে পারিনি,একবারে সংবাদ নিয়া আসছি।স্যার আপনাকে মায়ের কসম খেয়ে কথা দিছি আর মাদক বেচবোনা।এবার কথা রাখবো, স্যার বিরো আজ আমার বাড়ীতে এসে দেখা করেছে।আমাকে গাঁজা দিতে চাইতেছে,বিক্রি করে টাকা দিলে হবে,একশত গ্রাম চারহাজার টাকা,,আমাকে ছয় হাজার টাকা বিক্রি করতে বলতেছে। স্যার আমার সাথে চলেন।ওকে ধরিয়ে দিব।
আমি বললাম গাঁজা সহ কি ভাবে ধরা যায় পরিকল্পনা তৈরি করেন।বুড়া চাচায় খুব খুশি হইয়া বললো স্যার আমি যাই ফোন করলেই চইল্লা আইয়েন, লুঙ্গি গামছা পইড়া যাওন লাগবে,নইলে পুলিশকে চিনতে পারে।আমি মনে মনে আগ্রহ দেখে উৎসাহিত হইলাম এবং সালামত বুড়াকে সালামি দিয়া বিদায় করিলাম।
দুপুর ০১.০৫ টার সময় সালামত বুড়ার ফোন ,স্যার কথা হইয়াছে, কোলার মধ্যদিয়া যাইতে বলছে। আযানের পর পরই বাড়ীর পিছনের বাগানের মধ্য থেকে গাঁজা দিবে।আপনারা রাস্তা দিয়া যাবেন,আমার কাছে গাঁজা দেওয়ার আগেই বাগানের মধ্যে ধরে ফেলবেন।
আমি একটু কৌশল অবলন্বন করে বললাম, ওর সাথে ফোনে কথা গুলি রেকর্ড কইরেন,আর আজকে কাজ করবোনা,ও কে লাইনে রাখতে হবে কালকে ধরবো জানাই,আমার কথা শুনে সালামত বুড়া একটু মন খারাপ করলো বুঝতে পারলাম,বললো ঠিক আছে।কি আর করার,আমারও তো বুঝতে হবে।
পরের দিন সকালে সালামত বুরার ফোন স্যার আপনার লোক পাঠান তারাতারি দামুদর ব্রীজে।ও শহরে আসছে রিক্সা নিয়া।আমার দুইজন ফোর্স ছদ্বভেষে পাঠালাম। যথারীতি গাঁজা বিক্রেতাকে আমার ফোর্সদের দেখাইয়া দিল। টার্গেট সনাক্ত।সালামত বুড়ার ফোনের কথোপোকথনের রেকর্ড শুনে নিশ্চিৎ হলাম টার্গেট প্রকৃত গাঁজা বিক্রেতা,উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিয়া অভিযানের সম্নতি পাই।সালামত বুড়া চলে গেল,ঘটনাস্হল নির্বাচন করতে।এখন অভিযানের প্রস্তুতি।
ঠিক বিশ মিনিট পর সালামত বুড়ার ফোন, স্যার ঝাটকাটি শিকদার বাড়ীর রাস্তা রবি টাওয়ারের আসপাশ এলাকায় দিবে,আপনার লোক পাঠান। ।
সকাল ৯.২৫ টার্গেট পাওয়া গেল,উপস্হিত লোক জনের সামনে তল্লাশি করে গায়ে থাকা জামার বুক পকেটে কাগজে মোরানো বড় এক পোটলা গাঁজা উর্দ্দার হইল,বিধিমতে জব্দ করা হইল,আরও গাঁজার তথ্য ছিল,জিজ্ঞাসাবাদে গাঁজা বিক্রি করেছে, আর নাই বিভিন্ন ভাবে কাকতি বিনতি করে তার একটি মেয়ে ক্লাশ টেনএ পড়ে, ছোট মেয়ে প্রাইমারির ছাত্রী,বাসায় মা প্যারালাইসট, বাকা বৃদ্বা সেও অসুস্হ যানায়, বিভিন্ন কৌশলে প্রাপ্ত গাঁজার উৎস ও মজুদ জানতে চাই,গাঁজার উৎস সর্ম্পকে যার নাম যানা গেল, সে একজন পিরোজপুরের বিখ্যাত তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যাবসায়ী,একাধীক মামলার আসামী।তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য বাড়ীতে গিয়া অভিযান করি,দুর্ভাগ্য বাড়ীতে পাওয়া যায় নাই,নজর দাড়ীতে খোচর লাগালাম।উর্দ্দার কৃত গাঁজা ও আসামী সহ ডিবি অফিসে হাজির হইলাম।
অজ্ঞাত নামা একজনে ফোন করে আসামির বাড়ীতে গাঁজা মজুদ আছে,আগেও গাঁজা সহ গ্রেপ্তার হইছিল,বাড়ীতে তল্লাশি করার অনুরোদ করেন। পাসের টেবিলের এক সহকর্মি বলেন, তার কাছে েকজনে ফোন করে আসামির বাড়ীতে গাঁজা আছে জানাইয়াছে,বাড়ীটা তল্লাশি করার পরামর্শ দেন,বিষয়টি ও,সি স্যার সহ উর্ধ্বতন স্যারদের অবহিত করি। তাহারা স্হানীয় লোকদের উপস্হিতিতে তল্লাশি করার মত দেন।
আসামী সহ বাড়ীতে পৌছিলাম, স্হানীয় লোকজন ডেকে এনে তল্লাশি শুরু করি,আসামীর পিতা বয়স অনুমান আশি/৮৫ হইবে, যির্ন শরির ঘড় থেকে হামাগুরি দিয়া বের হয়ে ছেলের হাতে হাতকড়া ও ডিবি পুলিশ দেখে আমার বাবার কি হইছে বলে চিৎকার দিয়া অজ্ঞান হয়ে পরে।ঘড়ের মধ্যে চৌকির উপরে সোয়া মৃত্যুপ্রায় প্যারালাইষ্ট আশিউর্ধ্ব মা হাউমাউ করে কেদে উঠেছে। স্ত্রী স্বামীর হাতে হাতকড়া দেখে এ তুমি কি করলে বলিয়া সটান করে মাটিতে পরে জ্ঞান শুন্য,এই দৃশ্য দেখে কি করবো ভেবে উঠতে পারছিলাম না।সেই মুহুর্তে পৃথীবির সবচেয়ে অসহায় একমাত্র মানুষ আমি মনে হচ্ছিল।কোন মতে পরিস্হিতি সামাল দিলাম।অজ্ঞান স্ত্রী বাবা জ্ঞান ফিরে আসায়,সস্হি পেলাম।বৃদ্বা জ্ঞান ফিরে পেয়ে পা জরিয়ে ধরে তার ছেলেকে এবারের মত ক্ষমা করতে মিনতি শুরু করে সাথে স্ত্রীও।অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে নিজেকে ছারিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি এবং এই সকল পরিস্হিতি তার কৃতকর্মের জন্য হচ্ছে আসামীকে বলি,কেন এগুলি করছো? কত কাজ আছে, করলেইতো হয়।
আসামী জানায় দুটি মেয়ে স্কুলে পড়ছে তার খরচ,মা,অচল,প্যারালাইষ্ট ঔষধ,চিকিৎসা,বৃদ্দ বাবার চিকিৎসা,স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মেয়েলি রোগে ভুগছে চিকিৎসা করাতে পারছে না,সারাদিন অটো রিক্সা চালিয়ে যে কয় টাকা তাতে বাজারের টাকা হয়না,তার উপরে মা,বাবার চিকিৎসা,ঔষধ খরচ কোথায় পাবে,তাই জীবন যুদ্বে অর্থক্লান্ত অস্ত্রে সংসার নামক মাঠে পিতা মাতার মৃত্যু প্রায় নিবু নিবু প্রদিব জ্বালিয়ে রাখতে এবং কলিজার টুকরা সন্তান দুটিকে বর্তমান সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষিত করতে শিক্ষার উপকরন ও খরচা যোগাতে গাঁজা বিক্রি শুরু করছে।অবৈধ ব্যবসা ও আইনের চোখে মাদক জাতীয় গাঁজা বিক্রি অপরাধ যেনেও পিতা মাতার প্রতি অঘাত ভক্তি,স্ত্রী প্রতি দায়িত্বশীল ভালোবাসা ও সন্তানদের প্রতি অভিবাবকের স্নেহাজ্ঞ কর্তব্যবোদ এই অপরাদটি করতে বাধ্য করছে।আসামীর এই যুক্তির সাথে আপনার মতামত কি?

  • লেখক : মোঃ দেলোয়ার হোসাইন জসিম ।
  • উপ পরিদর্শক , জেলা গোয়েন্দা শাখা- পিরোজপুর ।




আরো সংবাদ




অফিস :  মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট (২য় তলা), ক্লাব রোড , পিরোজপুর (৮৫০০) ।

যোগাযোগ  : ০৯৬৩৮০৪৭৫৭৩

ইমেইল : pirojpurpost24@gmail.com

টপ
নারায়নগঞ্জ থেকে ভাণ্ডারিয়ায় আসা যুবক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে নাজিরপুরে চাল আত্মসতের অভিযোগে ইউপি সদস্য সহ ২ জনের কারাদন্ড স্বরূপকাঠিতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা নিয়ে এলাকাবাসীর হামলায় ৫ জন আহত ইন্দুরকানীতে নিষেধাজ্ঞা মানছেনা ব্যবসায়ী ও জনগণ : ১২ জনকে জরিমানা স্বরূপকাঠিতে তিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা পাড়া মহল্লায় বাঁশের বেড়া দিয়ে লকডাউন স্বরূপকাঠি পৌর এলাকায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু ছাত্রী নির্যাতনকারী সেই বখাটেকে খুঁজছে পুলিশ জানালেন পুলিশ সুপার নতুন আইজিপি বেনজীর ও র‌্যাব ডিজি মামুন ব্যক্তি উদ্যোগেই ঘরে ঘরে পৌছে দেয়া হচ্ছে খাদ্য পণ্য