1. pirojpurpost24@gmail.com : admin :
  2. kumarshuvoroy@gmail.com : Shuvo Roy : Shuvo Roy
  3. epiropur@gmail.com : e p : e p
  4. eshuvo1@gmail.com : shuvo roy : shuvo roy
অপহরণ না প্রেম ! | পিরোজপুর পোষ্ট ২৪
শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন

অপহরণ না প্রেম !

  • শেষ হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯
  • ৪৫৪ জন সংবাদটি দেখেছেন

অপহরণ না প্রেম। প্রেম না অপহরণ। কোনটা সত্য আর কোনটা অসত্য। আমরা প্রেম বলতে কি বুঝি? আর অপহরণ বলতেও বা কি বুঝি? প্রথমত: অপহরণ বলতে আমরা বুঝি কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একস্থান থেকে অন্য স্থানে তুলে নেয়া। সেটা এক নির্জন স্থানও হতে পারে। তারপর মুক্তিপন দাবী করা। না হয় অপহরণকারীদের কোন স্বার্থ হাসিল করা। আর প্রেম অর্থে আমরা যা বুঝি তা হলো- ভালোবাসা। এ ভালোবাসা বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। ভালোবাসা এমন এক জিনিস যা, যে কোন বয়সে, যে কোন মানুষের সাথে হতে পারে। মূলত: আমি যে প্রেম বা ভালোবাসার কথা বলতে চাই সেটা হলো ছেলে-মেয়েদের প্রেম অথবা ভালোবাসা। আর ছেলে-মেয়েদের নিষ্পাপ প্রেম, নিষ্পাপ ভালোবাসা দিয়েই থানায় রুজু হয় অপহরণ মামলা। থানায় মামলা যখন রুজু হয় তখন প্রেম-ভালোবাসা নিষ্পাপ থাকেনা। শুধু মেয়েই থাকে নিষ্পাপ। আর সব পাপ থাকে ছেলে আর ছেলের অভিভাবকদের। পুলিশের ভাষ্যমতে ১৮ বছরের কম বয়সী কোন মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে পাড়ি জমান মানে আইনী ভাষায় তাকে ফুঁসলিয়ে নেয়া। অর্থাৎ ১৮ বছর পূর্ণ না হলে ওই মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক। তার নিজস্ব কোন বুদ্ধি বিবেচনা হয় নাই। তাতে সে মেয়ের বয়স ১৬/১৭ অথবা ১৭ বছর ৫ মাস হোক। আর মেয়ের অভিভাবকদের ভাষ্য তার মেয়েকে মুখে ভাত মেখে না দিলে সে খেতে পারেনা, মাথায় তেল না দিয়ে দিলে চুল আঁচড়াতে পারেনা, মোবাইল কি জিনিস তাতো মেয়ে জানেইনা।
প্রিয় পাঠক, আমার প্রায় এক যুগ সাংবাদিকতার জীবনে অনেক প্রেম আর অনেক অপহরণ দেখেছি। দেখেছি কলেজ পড়–য়া ছাত্রী তার প্রেকিমের হাত ধরে চলে গেছে। থানায় মামালা হয়েছে। ছেলে পক্ষের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আবার অনেক সময় ভাতিজার প্রেমের খেসারৎ চাচায় দিয়েছে। অর্থাৎ চাচায় জেলও খেটেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন ১৬ বছরেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু নারী সংগঠনের বিরোধীতার কারণে তা পারেননি। অথচ আমরা যে প্রেম আর অপহরণ দেখতে পাই ক্লাস এইড থেকে শুরু করে একাদশ/ দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে। এসময় মেয়েদের বয়স ১২ থেকে শুরু করে ১৬/১৭ বছরের মধ্যে। যে পরিবারের একটি মেয়ে ক্লাস এইড, নাইন, টেন অথবা এসএসসি পরীক্ষার সময় ২/১ পেপার পরীক্ষা দিয়ে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায় তখন দেখা যায় তার পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থা। থানার বারান্দায় ঘোরাঘুরি। ওসি সাহেবের রুমে ঢুকে আহাজারি। মেয়ের পরিবার ছটফট করে মেয়ের জন্য। আর ছেলের পরিবার পালিয়ে বেড়ায় জেল থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। পরবর্তীতে পুলিশ যখন অপহরণকারী ছেলে এবং অপহৃত মেয়ে অর্থাৎ প্রেমিক-প্রেমিকাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে তখন ওসি’র রুমে মেয়ের বাবা-মায়ের সামনে মেয়েকে হাজির করা হয়। মেয়ের মা ফিসফিস করে কাঁদে আর বাবা মাথা নিচু করে বসে থাকে। ওসি সাহেব যখন জিজ্ঞেস করে এ মেয়ে এদিকে তাকাও এই চেয়ারে বসা কে? মেয়ে উত্তরে বলে চিনিনা। অর্থাৎ প্রেমেরে টানে জন্মদাতা পিতাকে বলে চিনিনা। ওসি সাহেব আবার ধমক দিয়ে বলে এ তুমি কি বলছো তোমার বাবাকে তুমি চিননা। তখন মেয়ে আঙ্গুল কাঁমড়ায় আর ফিসফিস করে মানে চেনেনা। ওসি সাহেবের রুমে সংবাদকর্মী থেকে যারা বসে থাকেন সবাই মেয়ের দিকে একটু অবাক দৃষ্টিতে থাকায়। একপর্যায়ে মেয়ের মা আরে গেদু বলে হাউমাউ করে কেঁদে দেয়। কিন্তু কাজ হবে কি? এতো আসল অপহরণ না, এতো আসল প্রেম। যদি আসল অপহরণ হতো তাহলে মা-মেয়ে উভয় কাঁদতো। জাতিও কাঁদতো। কাঁদতো মানবতা।

লেখকঃ শাকিল আহমেদ – মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রতিনিধি , দৈনিক মাবনকন্ঠ ।

আরো সংবাদ
পিরোজপুর পোষ্ট ২৪ ডটকম - ২০১৮-২২। (অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের ছবি, ভিডিও ও সংবাদ কপি করা থেকে বিরত থাকুন)
Theme Customized By PIROJPURPOST24
কারিগরি সহায়তায়: Website-open
x